মুভিঃ Daagi
সালঃ 2025
রান টাইমঃ 2h 20m
জনরাঃ রোমান্স / এডভেঞ্চার / ক্রাইম থ্রিলার
IMDB- 5.2 / 10
হাজারটা চাঁদ আসলেও সেই রাতের কোন মূল্য নাই যদি তুই না আসিস, তুই বিহীন সেই রাত অর্থহীন। কি নেই গল্পে (?) এ্যাকশন, ক্রাইম, পারিবারিক ক্রাইসিস, ট্রাজেডি, ইমোশনাল ও রোমান্টিকতায় ফুল প্যাকেজ। হতে পারে আপনার দেখা বেস্ট এন্টারটেইনমেন্ট। এটা ১৪ বছর জেলখাটা একজন দাগি আসামীর গল্প (?) নাকি নিশান ও জেরীনের বিয়োগান্ত প্রেম কাহিনীর (?) নাকি মেয়ের জন্য একজন বাবা নিজেকে উৎসর্গ করে দেয়ার গল্প (?)
দাগির দাগ একবার যার গায়ে লাগে–সেই দাগ আর সহজে যায় না। পুরো শহরে একটাই স্লোগান নিশানের ফাঁ*সি চাই, কিন্তু কেন (?)
.
প্রচলিত সমাজে একজন দাগি আসামি কারা ভোগের পর দেশ ও সমাজে কিভাবে সার্ভাইব করবে (?) দাগি জীবনের যে জটিলতা, পারিবারিক ক্রাইসিস, ট্রাজেডি,একজন মানুষের বাস্তবতা কতোটা নির্মম নিষ্ঠুর হয় স্ক্রিনে তা প্রেজেন্টেশন করেছে ডিরেক্টর "শিহাব শাহীন" দুর্দান্ত মেকিং। মাইন্ড ব্লোইং সিকোয়েন্স। বহু বছর পর আজ বাংলা সিনেমা দেখে আমি অঝোরে কান্না করলাম, আহা জীবন!! ক্ষমা চাইতে অনেক সাহস লাগে। অনেক ক্ষমতাশালীরদের পতন হইছে ক্ষমা চায়নি বলে। বাবা - মা সহ সমাজের অপবাদ, লাঞ্ছনা, ঘৃণা নিয়ে একজন দাগি আদৌও কি পারবে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে স্বাভাবিক সুন্দর একটা লাইফ লিড করতে (?) আর কি সেই দাগি হয়ে উঠার পিছনে রহস্য (?)
.
অভিনয় হচ্ছে একটা আর্ট। আর এই আর্টকে কখনোই ছোট পর্দা বড় পর্দায় আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। সুরঙ্গের পর দাগির জন্য হলেও নিশো ও তমার কেমিস্ট্রি দর্শকদের মাঝে বেঁচে থাকবে আজীবন। জেলখানা হইছে একটা জাহান্নাম। জেলখানায় একজন আরেকজনরে পায়ের নিচে দাবায় রাখতে চায়।
.
নিশো একজন মেধাবী অভিনেতা যার অভিনয় ছিল চোখ ধাঁধানো। স্ক্রিনে প্রতিটি লুক, এক্সপ্রেশন, গুলো যেন রিয়েলিস্টেড। একটা গল্পে একজন মানুষ কখনো প্রেমিক, কখনো সন্তান, কখনো কয়েদি, কখনো ভাই, কখনো বাবা। আর স্ক্রিনে নিশোর ইমোশনাল সিকোয়েন্স গুলো জাস্ট হৃদয় নিঙড়ানো। ভালো মানুষ হয় নষ্ট, আর নষ্ট মানুষ হয় পিচাশ।
.
আর তমার অভিনয় নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু না। এই গল্পে তমা নিজের ক্যারিয়ারের সেরা পারফর্মটাই দেখিয়েছে। অন্যদিকে নাজিয়া "সুনেরাহ বিনতে কামাল" তার সাইন ল্যাঙুয়েজ এক্সপ্রেশন দেখে মনে হয়নি যে অভিনয় করছে। একজন এক্ট্রেস এতো নিখুঁত অভিনয় কিভাবে করে (?) সাবলীল চরিত্র, লুক, কস্টিউমস সবমিলিয়ে অনবদ্য সৃষ্টি।
.
অন্যদিকে শক্তিমান অভিনেতা 'শহীদুজ্জামান সেলিম' সহ গাজী রাকায়েত, মিলি বাশার, ও মনিরা মিঠুর অভিনয় অসাধারণ ছিল। আর 'রাশেদ মামুন অপু' তার নেগেটিভ চরিত্র যেন গল্পের প্রধান আকর্ষণ। তাছাড়া বাদবাকি সকল আর্টিস্টদের অভিনয়ের কেন কমতি ছিল না। "তাহসান ও মাশা ইসলামের" কণ্ঠে 'একটুখানি মন' গানের তালে তালে বিজিএম মিউজিক সহ সিনেমাটোগ্রাফি ও ডার্ক টোনের কম্বিনেশন অসাধারণ। আর লোকেশন সিলেকশনও পারফেক্ট ছিল গল্পের সাথে। ফাইনালী সকল শ্রেণির দর্শকদের জন্য হাইলি রিকমেন্ডেড।
~হ্যাপি ওয়াচিং



0 comments:
Post a Comment